কে এম শাহীনুর রহমান, তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালায় ক্রয়কৃত জমি দখলের সময় প্রতিপক্ষ শহিদুল গংদের বাঁধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে তালা বাজারের মেলাখোলায় কপোতাক্ষ নদীর তীরে এই ঘটনা ঘটে।সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় সৈয়দ দিদার, রিপন ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অনেকেই বলেন, তালা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি এস এম নুরুল ইসলাম তালা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেনের দখলীয় তালা মৌজার ১০৭ নং এসএ খতিয়ানের ৫১৩ নং দাগের ৮.৬৪ শতাংশ জমির মধ্যে হতে ২০২৬ সালে ২৬৯১ নং দলিলে ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে নিজের নামে নাম পত্তন সহ সরকারের কর পরিশোধ করেছেন। তার ক্রয়কৃত জমিতে আজ দোকানঘর তৈরী করতে গেলে মৃত্যু জালাল ডাক্তারের ছেলে শহিদুল গংরা ভাড়াটিয়া লোকজন এনে বাঁধা দেয় এবং ঘেরাবেড়া ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়।এরআগে চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন মৃত্যু সৈয়দ আব্দুস সাত্তারের ওয়ারেশ সৈয়দ আবু নসুর, সৈয়দ আবু আলম, সৈয়দ আবু আয়ুর, সৈয়দ আব্দুল জাহাঙ্গীরের নিকট থেকে ১০.৮০ শতক জমি ক্রয় করেন।
একটি সূত্র জানায়, জালাল ডাক্তার এই এলাকার একজন কুখ্যাত রাজাকার কমান্ডার ছিলো। সে ঐ সময় শান্তি কমিটির ভয় দেখিয়ে ক্ষমতার জোরে বিভিন্ন মানুষের জমি নামে বেনামে জালদলিল করে নেয়। সে তার স্ত্রীর নাম এই জমিরও ৬ টি জাল দলিল সৃষ্টি করছিলো। যা আদালত কর্তৃক প্রমাণিত হয়েছে। দলিলগুলো ইসলামকাটি সাবরেজিষ্ট্রী অফিসের পোড়া আমলের দলিল।এই দলিল নিয়ে তালা থানায় অনেকবার আলোচনা হয়েছে। অধিকাংশ দলিলের দাগ নং ও সৃষ্টির তারিখ কাটাকাটি করা এমনকি দাতা গ্রহীতার নাম ও কাটাকাটি করা হয়েছে।এস এম নুরুল ইসলাম বলেন, আমি ন্যায্য দামে তালা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেনের ভোগদখলীয় জমির কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে সঠিক প্রমাণিত হওয়ায় ৪ শতক জমি ক্রয় করি। এই জমির নাম পত্তন সহ দাখিলা কেটে আজ দোকানঘর কারার চেষ্টা করি। এসময় প্রতিপক্ষ শহিদুল গংরা ঘেরাবেড়া ভেঙে দেয় এবং আমার শ্রমিকদের মারধর করার চেষ্টা করে। তখন আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। তারা জমির কোনো সঠিক কাগজপত্র দেখাতে না পারলেও আমার কাজে বাঁধা দিচ্ছে। তারা যে কোনো সময় আমার উপর আক্রমণ করতে পারে। আমি খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি।
অভিযুক্তদের বক্তব্যে নেয়ার বারবার মোবাইল ফোন ও হোয়াটএ্যাপে ম্যাসেজ পাঠিয়েও যোগাযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।