PriyoKhobor-PNG
রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:৫৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর

হাসিনার সাজা বাড়ানোর শুনানি ঝুলে আছে আপিল বিভাগে

এস আর নিরবঃ
জুলাই ৩, ২০২৬ ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
| 52
Link Copied!

এস আর নিরবঃ 

জুলাই বিপ্লবে গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার সাজা আমৃত্যু কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ডে বাড়ানোর আবেদনের শুনানির প্রস্তুতি নিতেই সাত মাস চলে গেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউশন বিভাগের। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নিয়মিত মামলার শুনানির তালিকায় দফায় দফায় এলেও মাসের পর মাস ঝুলে আছে শুনানি। গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায়টি হলেও এ-সংক্রান্ত আপিলটির শুনানি করা হয়নি আজও।

জুলাই বিপ্লব দমনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে গত বছরের ১৭ নভেম্বর আইসিটি তার প্রথম রায়ে ক্ষমতাচ্যুত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং আরেকটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। পরে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর হাসিনা ও কামালের সাজা আমৃত্যু কারাদণ্ড থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করার দাবি জানিয়ে আপিল করে প্রসিকিউশন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই আপিলের শুনানি শুরু করতে পারেনি তারা। জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলে ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ওই দিনই হাসিনার বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ওই সময় মামলাটির একমাত্র আসামি ছিলেন হাসিনা।

পরে গত বছরের মার্চে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে এ মামলায় আসামি করতে প্রসিকিউশনের করা আবেদন মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর ১২ মে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এ মামলায় হাসিনাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ এনে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। এ মামলার আসামি হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল পলাতক। একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি সাবেক আইজিপি মামুন অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

ট্রাইব্যুনাল আইনে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া আপিল দায়েরের পর ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বিধানও রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সময়সীমা নির্দেশনামূলক হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি না হলেও আপিলের কার্যকারিতা বহাল থাকে।

এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত এ মামলার আপিল শুনানির জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারিনি। তাই তালিকায় এলেও শুনানির জন্য কোনো উদ্যোগ নিইনি। তিনি বলেন, আইনে ৬০ দিনের ডাইরেক্টরি বিধান আছে। যদি ৬০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি না হয়, তবুও আপিলটা এনফ্রেকচুয়াস হয়ে যাবে না। মানে আপিল বহাল থাকবে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের বিচারপতি রেজাউল হকের চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য উত্থাপন করলে তিনি তা আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। এরপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের কার্যতালিকায় বিষয়টি শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হলেও আইসিটির প্রসিকিউশন বিভাগ শুনানির জন্য দাঁড়ায়নি। এরপর থেকে এটি আপিলে ঝুলে রয়েছে।

আপিলে দণ্ড বৃদ্ধি চেয়ে আটটি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছিল। আটটি যুক্তির অন্যতম হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এ যে শাস্তির কথা বলা আছে, তার প্রথমেই ডেথ পেনাল্টি মৃত্যুদণ্ড দিয়ে বর্ণনা রয়েছে। অন্যদিকে জুলাই বিপ্লবে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তা ভায়োলেশন অব সিরিয়াস হিউম্যান রাইটস বা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। সেখানে নিষ্ঠুরতম অপরাধ হয়েছে, যার শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদণ্ডই হওয়া উচিত ।

আপিলের যুক্তিতে বলা হয়, আসামিরা জেনেছেন যে, তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা চলছে। সাজা হচ্ছে। আপিলের মেয়াদও ৩০ দিন। এসব জেনেই তারা নিজেদের পলাতক রেখেছেন। পলাতক থেকে বিভিন্ন ট্রায়ালে বাধা দেওয়ার জন্য বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন।

এ ধরনের আচরণের ক্ষেত্রে তাদের শাস্তি কমানোর কোনো সুযোগ নেই। আর আসামিদের সরাসরি আদেশ বা নির্দেশে যে ধরনের হত্যাযজ্ঞ হয়েছে, তা পৈশাচিক। তাদের নির্দেশে সারা দেশে এক হাজার ৪০০ জনের অধিক মানুষ শহীদ এবং ২৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন, যা নজিরবিহীন এবং ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম ঘটনা। সে কারণে হাসিনাসহ আসামিদের মৃত্যুদণ্ডই ছিল সঠিক ও ন্যায়বিচার।

বিদ্যমান অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু বলেন, সার্বিক অবস্থা বিচারে শেখ হাসিনার মামলায় প্রতীয়মান হচ্ছে, ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের অবহেলা ও অনাগ্রহ রয়েছে। এজন্যই এত মাস পর্যন্ত মামলাটির শুনানি পিছিয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চার উপদেষ্টা সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে!
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST