চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সুখছড়ী মৌজায় অবস্থিত একটি প্রাচীন সার্বজনীন কবরস্থানকে বিভাজন করে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার এবং সরকারি বরাদ্দের অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সুখছড়ী কামারদীঘির পূর্বপাড় সংলগ্ন আরএস খতিয়ান-১২৮১ ও বিএস খতিয়ানভুক্ত সরকারি (খাস) কবরস্থানটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সর্বসাধারণের দাফনকার্যে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের পূর্বপুরুষ, মা-বাবা ও স্বজনদের কবরও ওই কবরস্থানে রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকার মৃত কবির আহমদের ছেলে ফরিদ আহমদ কবরস্থানটিকে পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে উপস্থাপন করে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ থেকে “সর্বসাধারণের কবরস্থান সংস্কার” প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বরাদ্দ সংগ্রহ করেন। পরে ওই অর্থ ব্যবহার করে কবরস্থানের মাঝখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে একটি অংশকে ব্যক্তিগত কবরস্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
স্থানীয়রা আরও দাবি করেন, কবরস্থানের মাঝখানে দেওয়াল নির্মাণের ফলে সাধারণ মানুষের দাফনকার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে কবরস্থানের মূল্যবান জায়গা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এর সার্বজনীন চরিত্রও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, সরকারি অর্থ যে উদ্দেশ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নের পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ইউএনওর কাছে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত, সরকারি খতিয়ানভুক্ত কবরস্থানের সীমানা নির্ধারণ, চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ, অবৈধভাবে নির্মিত দেয়াল অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কবরস্থানের মাঝখানে বিভাজন না করে চারপাশে প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে এর পূর্বের সার্বজনীন অবস্থা ফিরিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফরিদ আহমদ জানান, কবরস্থানের অধিকাংশ জায়গা আমাদের খতিয়ানভুক্ত। কবরস্থানে কিছুটা সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গাও রয়েছে। সার্বজনিন কবরস্থান হিসেবে কবরের রক্ষণাবেক্ষণ ও সৌন্দর্য্ বর্ধণের জন্য জেলার প্রশাসক থেকে একটি বরাদ্দ এনেছি। যার কাজ এখনও চলমান। তবে অভিযোগকারীরা করবস্থান বিভাজন নিয়ে যে অভিযোগ দায়ের করেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বায়েজীদ বিন-আকন্দ’র কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে উভয়পক্ষকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে বৈঠকের জন্য বলা হলে উভয় পক্ষই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর মাধ্যমে এবং একই অফিসের সার্ভেয়ারের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট বিরোধপূর্ণ ভূমি পরিমাপ করা হলে সমস্যার সমাধান হবে মর্মে সকলে মতামত ব্যক্ত করায় উক্ত মতামতটি সর্মসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণপূর্বক সুবিধাজনক নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতিতে সে মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।