বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের কিশোরীপুর এলাকায় একটি পুকুর থেকে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
জানা যায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহিনের প্রায় চার বিঘা আয়তনের একটি পুকুর থেকে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এতে পুকুরের তলদেশ ১০ থেকে ২০ ফুট বা তারও বেশি গভীর হয়ে পড়েছে। ফলে পাড় ভেঙে আশপাশের কৃষিজমি পুকুরে বিলীন হচ্ছে এবং গ্রামীণ অবকাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
এছাড়া পুকুর ও খালের পাড়ঘেঁষা কাঁচা-পাকা রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান এলাকাবাসী।
অভিযান চলাকালে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত পাইপ ও ড্রেজার মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয় এবং তা ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি এ ধরনের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, “জনস্বার্থ রক্ষা এবং পরিবেশের ক্ষতি প্রতিরোধে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের এমন কার্যকর পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এলাকায় পরিবেশ ও জনজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।