
এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সরকারি আজিজুল হক কলেজের সার্বিক উন্নয়নে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন সংযোজন ও আধুনিকায়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগের সাড়ে ৩৫০ কোটি টাকার পরিকল্পনা সংশোধন করে এ বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা।রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সরকারি আজিজুল হক কলেজে আয়োজিত এক ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।এমপি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, সরকারি আজিজুল হক কলেজ তাঁর অহংকার ও গর্বের জায়গা। একসময় এই কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি এখানে ক্লাস করেছেন, সহপাঠীদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি তাঁর গভীর আবেগ, ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। কলেজটিকে একটি আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সময়ের দাবি।তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি আজিজুল হক কলেজের স্মৃতির কথা স্মরণ করে প্রতিষ্ঠানটিকে নান্দনিক ও আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।উন্নয়ন পরিকল্পনার ব্যাখ্যা দিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, প্রাথমিকভাবে কলেজটির অবকাঠামোগত উন্নয়নে সাড়ে ৩৫০ কোটি টাকার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় নতুন স্থাপনা সংযোজন, সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের বিষয়টি সামনে আসায় পরিকল্পনাটি সংশোধন করে প্রায় ৬০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কলেজটির শিক্ষার পরিবেশ, অবকাঠামো ও সামগ্রিক সুযোগ-সুবিধায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্মের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে রেজাউল করিম বাদশা বলেন, সাধারণ শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা সুদে ও বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।বগুড়ার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা, শিল্প, যোগাযোগ ও নগরায়ণের সমন্বিত বিকাশের মাধ্যমে বগুড়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন করা হয়েছে, যেখানে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও কৃষিশিক্ষার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আন্তর্জাতিক মানের বিজনেস জোন, শিল্প পার্ক এবং সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক ফলাফলের প্রশংসা করে সংসদ সদস্য বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ফলাফলের দিক থেকে কলেজটি তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত করে প্রতিষ্ঠানটি দেশসেরা অবস্থানে পৌঁছাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।তিনি বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষার মান বৃদ্ধি, গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি আজিজুল হক কলেজের উন্নয়ন পরিকল্পনায় এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।অনুষ্ঠানে সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাহফুজুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক শামসুল আলম পাশাসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার মিয়া, সহকারী প্রকৌশলী মো. সবুজ মিয়া, সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাজিবুল ইসলাম শাকিল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম বিপ্লব, সদস্যসচিব রাকিবুল আল-আমিনসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।



