
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধিঃ
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তথ্য শুমারি কর্মসূচির জন্য অস্থায়ী তথ্য সংগ্রহকারী ও ফিল্ড সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে মণিরামপুরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং মেধা মূল্যায়নে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছেন একাধিক চাকরিপ্রার্থী।
অভিযোগকারীদের দাবি, লিখিত পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও সেটা না হয়ে সুধু ব্যবহারিক পরীক্ষা হয়েছে, ভালো পরিক্ষা দিয়েও অনেক যোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাননি। অন্যদিকে তুলনামূলক কম যোগ্যতা বা পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া ব্যক্তিদের রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশের ভিত্তিতে তালিকা করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী নিয়গ হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ফল প্রকাশের পর থেকেই উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এলাকায় অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
কোদলাপাড়ার পরিক্ষার্থী গাজী মোজাম্মেল হক জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়নি।উপজেলার এ ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন এবং অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মাওঃ সেলিম জাহাঙ্গীর। নিয়োগ পরিক্ষায় কারচুপি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মনিরামপুর রিপর্টাস ক্লাবের সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসাইন কে ফোন দিয়ে ফোনে পাওয়া যাইনি তবে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় কিংবা নিয়োগ কমিটির পক্ষ থেকে কোনো লিখিত ব্যাখ্যাও প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় তথ্য সংগ্রহকারী ও ফিল্ড সুপারভাইজার পদে অস্থায়ীভাবে জনবল নিয়োগের জন্য গত ২৩ থেকে ২৫ জুলাই আবেদন গ্রহণ করা হয়। পরে ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের মূল্যায়ন শেষে গতকাল চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা।


