PriyoKhobor-PNG
বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:৩৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর
শিরোনাম :

পাঁচবিবিতে নারী নির্যাতন মামলায় ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ঢাকায় গ্রেফতার

দৈনিক গণআওয়াজ
জুলাই ১৫, ২০২৬ ৬:০১ অপরাহ্ণ
| 17
Link Copied!

জয়পুরহাট জেলা সংবাদদাতাঃ

নারী নির্যাতন মামলায় আদালতের রায়ে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মো. সিরাজুল ইসলাম (৩৭) কে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর প্রায় তিন বছর আত্মগোপনে থাকা ওই আসামিকে নবীনগর র‍্যাব-৪ এর অভিযানে গ্রেফতার করা হয়। পরে পাঁচবিবি থানা পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসে।

গ্রেফতারকৃত মো. সিরাজুল ইসলাম পাঁচবিবি উপজেলার ডোলপাড়া (শান্তা দিগর) গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নারী ও শিশু মামলা নং-২০০/২০২৩-এর বিচার শেষে আদালত তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩)-এর ১১(গ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০২২ সালের (২ জানুয়ারি) ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক ভুক্তভোগীর সঙ্গে সিরাজুল ইসলামের বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই অভিযুক্ত ও তার পরিবারের সদস্যরা পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে নিয়মিত মারধর, গালিগালাজ এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, সিরাজুল ইসলাম পূর্বে আরেকটি বিয়ে করেছিলেন এবং সেই তথ্য গোপন রেখেই তাকে বিয়ে করেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। অভিযুক্ত ও তার সহযোগীদের মারধরে গুরুতর আহত হলে ভুক্তভোগীকে প্রথমে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে এবং পরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। চিকিৎসা শেষে গত ২০২৩ সালে তিনি জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সিরাজুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। তবে রায়ের পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং দীর্ঘদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচয় গোপন করে অবস্থান করেন।

এদিকে দীর্ঘদিনেও আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় গত (১১ জুলাই) ভুক্তভোগীর ভাই র‍্যাব-৪, সিপিসি-২, নবীনগর, আশুলিয়া ক্যাম্পে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি আশুলিয়া এলাকায় অবস্থান করে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করছেন এবং তার সম্ভাব্য অবস্থানের বিস্তারিত তথ্যও র‍্যাবকে সরবরাহ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে র‍্যাব-৪ গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আসামির অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান পরিচালনা করে। গত (১৪ জুলাই) মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর আশুলিয়া এলাকা থেকে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে র‍্যাব বিষয়টি পাঁচবিবি থানাকে অবহিত করলে থানার একটি পুলিশ দল ঢাকায় গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসে।

পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজ মোঃ রায়হান জানান, আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করে আসামিকে থানায় আনা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫১ পুরিয়া গাঁজাসহ ৩ পেশাদার মাদক কারবারি গ্রেপ্তার 
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST