প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১০, ২০২৬, ১১:৫৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২২, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
বগুড়া শেরপুর পৌরসভার বারদুয়ারী হাটে রহস্যজনকভাবে পাকা ঘর নির্মাণ, জানেন না পৌর প্রশাসক

এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন বারদুয়ারী হাটের একটি ফাঁকা জায়গায় অনুমতি ছাড়াই পাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কারা এসব ঘর নির্মাণ করছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, বারদুয়ারী হাটের ভেতরে একটি খালি জায়গায় ইটের গাঁথুনির কাজ চলছে। কয়েকজন শ্রমিক সেখানে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁদের ভাষ্যমতে, গত দুই দিন ধরে নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। প্রায় ৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের জায়গাজুড়ে পাঁচটি পাকা দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।
সেখানে কর্মরত শ্রমিক আব্দুস সালাম জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তির নির্দেশনায় তাঁরা কাজ করছেন এবং তিনিই শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করছেন। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করতে তিনি রাজি হননি। তাঁর দাবি, কাজটি পৌরসভার তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দীর্ঘদিনের সবজি বিক্রেতা ফজর আলী বলেন, কয়েক বছর আগে তিনি একই স্থানে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষ সেটি ভেঙে দেয়। বর্তমানে হাটের নির্ধারিত দিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার ওই স্থানে অস্থায়ীভাবে ভোজ্য তেলের দোকান বসে। এখন সেখানে কারা স্থায়ী দোকানঘর নির্মাণ করছে, তা তাঁর জানা নেই।
নির্মাণকাজের বিষয়ে জানতে চাইলে শেরপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাটের মালিক জেলা প্রশাসক। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি তদারকি করেন। তবে পৌরসভা ওই স্থানে কোনো দোকানঘর নির্মাণ করছে না।
অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, জেলা প্রশাসন হাটের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করেছে। পৌরসভাই হাট ইজারা দেয় এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তাদের ওপর বর্তায়। ফলে বিষয়টি সম্পর্কে পৌর কর্তৃপক্ষের অবগত থাকার কথা।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “কে বা কারা ঘরগুলো নির্মাণ করছে, তা আমার জানা নেই। পৌরসভা এ কাজ করছে না এবং কাউকে কোনো ধরনের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। খবর পাওয়ার পর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাটের জায়গায় যথাযথ অনুমোদন ও স্বচ্ছতা ছাড়া স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা উদ্বেগজনক। তাঁরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের আরও কার্যকর নজরদারি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনুমতি ছাড়া সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। প্রশাসনের তদন্তে প্রকৃত তথ্য উঠে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস আর নিরব। Office: ২০৫/৪, খান প্লাজা, (লিফটে ৭ রুম নং -৯ সি) ফকিরাপুল, কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০, Mobil: 01713-086019
ই-পেপার