প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৩, ২০২৬, ৯:৩২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৩, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
যশোর জেনারেল হাসপাতালের সামনে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের ছড়াছড়ি
এস আর নিরবঃ
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে আনুমানিক ৫০০ মিটারের মধ্যে ২৬ টি বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। এরমধ্যে ২২ টির হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের টার্গেট করে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। নামমাত্র এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ত্রমেই বেড়ে চলেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের একটি ভবনের দুই তিন ও চার তলায় রয়েছে ইউনিক হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনেই বেসরকারি এই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। আনুমানিক ২শ’ ৫০ বর্গফুটের একেকটি কক্ষে ৫/ ৬টি শয্যা। একই ভবনের নিচতলায় রয়েছে কমটেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যেটি দালাল নির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। আরেকটি ফ্লাটে রয়েছে অর্থোপেডিক ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ডা. গোলাম ফারুক প্রতিষ্ঠানটির মালিক। আরেক অংশের ২য় তলায় রয়েছে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তার নিচ তলায় গড়ে ওঠেছে ল্যাবজোন স্পেশালাইজিড হসপিটাল।
সামান্য দূরে একটি ভবনের নিচে রয়েছে ডক্টরস ল্যাব এন্ড কনসালটেশন সেন্টার আর ওপারে ইসলামী ডায়া্গনস্টিক সেন্টার। পাশের ভবনের নিচ তলায় রয়েছে প্রিন্স ডায়া্গনস্টিক সেন্টার ও তার ওপরের তলা জুড়ে আল্ট্রাভিশন হসপিটালএন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবস্থিত। তার গাঁ জুড়ে আরেকটি ভবনের নিচে গড়ে তোলা হয়েছে পিয়ারলেস ডায়া্গনস্টিক সেন্টার। ভবনের ওপরের তলায় ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠান খুলেই নিজেদের ইচ্ছামতো কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অথচ অধিকাংশ হাসপাতাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধ কাগজপত্র নেই। একই ভবনে একাধিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। গত মাসে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ডিএনএ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে। অভিযানের দুই সপ্তাহ পর প্রতিষ্ঠান দুটি চালু করেছে মালিকপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল আসা রোগীদের টার্গেট করেই মূলত সরকারি হাসপাতালের সামনেই সারিবদ্ধভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বেসরকারি এসব হাসপাতাল, ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এখানে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নিয়মনীতি। বেসরকারি হাসপাতালগুলো সরকারি হাসপাতালের সামনে হওয়ায় সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ রোগীরা। নিম্নমান ও অনুমোদনহীন এসব বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের নিয়োগ করা দালালের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন তারা। একই ভবনে গড়ে ওঠা একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করে থাকনে। তারা রোগীর নিয়মিত অপারেশনসহ সকল চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। প্রাইভেট চেম্বারে বসে প্রতিদিন আয় করছেন মোটা অংকের টাকা।
অভিযোগ উঠেছে, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কমটেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাসেবার কোন পরিবেশ নেই। দালালের উপর ভর করেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা হচ্ছে। এখানকার নিয়োগকৃত দালালরা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে এখানে আনার পর গলাকাটা বানিজ্য করা হয়। বিশেষজ্ঞ প্যাথলজিস্ট ও ল্যাব টেকনশিয়ান না থাকলেও রোগীদের প্যাথলজি রিপোর্ট হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য উন্নতমানের যন্ত্রপাতিও নেই। মূলত রোগীদের সাথে প্রতারণা করে অর্থ হাতানোর ধান্দায় ব্যস্ত রয়েছেন কমটেক কর্তৃপক্ষ।
ইউনিক হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধেও অভিযোগের শেষ নেই। আলোচিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নানা অনিয়মের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এছ্ড়াা রয়েছে অপচিকিৎসার অভিযোগ। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপতালের কতিপয় চিকিৎসক সরকারি এই হাসপাতাল থেকে হাত পা ভেঙ্গে যাওয়া রোগীদের গোপনে ইউনিক হসপিটালে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া বিগত দিনে এখানে অপচিকিৎসায় চৌগাছার মাড়ুয়া গ্রামের দিনমজুর ফজলুর রহমানের ছেলে শামিনুর রহমানের (১০) জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। গরু বিক্রির টাকা দিয়ে ছেলেকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন ফজলুর রহমান। এঘটনায় রোগীর স্বজনরা ইউনিক হসপিটালে হাম,লা চালিয়ে ভাংচুর করে।
সূত্রের দাবি, এসব হাসপাতাল গড়ে তোলার পেছনে রয়েছেন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কখনো নিজের নামে, কখনো আবার স্ত্রীর নামে এসব হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন তারা। আর্থিকভাবে লাভবান হতে তারা একই এলাকায় পাশাপাশি ভবনে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
এ বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে একই ভবনে একাধিক হাসপাতাল ক্লিনিক স্থাপনের বিষয়টি অবগত হয়েছেন। অনিয়মের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। গত মাসে ডিএনএন ও পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অন্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর নজর রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস আর নিরব। Office: ২০৫/৪, খান প্লাজা, (লিফটে ৭ রুম নং -৯ সি) ফকিরাপুল, কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০, Mobil: 01713-086019
ই-পেপার