প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৬, ২০২৬, ৬:৩০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৬, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
বগুড়া ডিবি পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার
এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও শিবগঞ্জ থানায় সংঘটিত পৃথক দুটি ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৫ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত একটি মোটরসাইকেল, একটি বাটন মোবাইল ফোন, নগদ ৫ হাজার ৫০০ টাকা, ৭ দশমিক ৫ আনা স্বর্ণালংকার এবং বিভিন্ন ইমিটেশনের গহনা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে গভীর রাতে নন্দীগ্রাম উপজেলার বীরপলি (ফকিরপাড়া) এলাকার বাসিন্দা রশিদুল আলমের বাড়িতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল হামলা চালায়। ডাকাতরা বাড়িতে প্রবেশ করে মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, টেলিভিশন ও নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করা হলে জেলা গোয়েন্দা শাখা ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৫ জুন ২০২৬ জেলার কাহালু, দুপচাঁচিয়া ও সদর উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত মো. আসলাম সাকিদার (২৭), মো. জিয়ারুল ইসলাম ওরফে জিয়াউর রহমান (৪৬) এবং মো. সাইদুর মন্ডল ওরফে মগা (৩৬)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মোটরসাইকেল, একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে, গত ৩১ মে গভীর রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ দহপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. জিয়াউল হকের বাড়িতে একই কায়দায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা তাকে মারধর করে গুরুতর জখম করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, স্মার্টফোন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের পর ডিবি পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
পরে শিবগঞ্জ ও কাহালু এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে মো. জুয়েল প্রামানিক (২৪) ও মো. আব্দুল ওহাব (২৮)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে একটি স্বর্ণের চেইন, একটি কানের দুলসহ মোট ৭ দশমিক ৫ আনা স্বর্ণালংকার এবং কিছু ইমিটেশনের গহনা উদ্ধার করা হয়।
বগুড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক ডাকাতি ও অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আসলাম সাকিদারের বিরুদ্ধে ৫টি, জিয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১টি, সাইদুর মন্ডলের বিরুদ্ধে ২টি এবং জুয়েল প্রামানিকের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা। পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাত চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের দাবি, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস আর নিরব। Office: ২০৫/৪, খান প্লাজা, (লিফটে ৭ রুম নং -৯ সি) ফকিরাপুল, কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০, Mobil: 01713-086019
ই-পেপার