PriyoKhobor-PNG
শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৫:১৬
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চাকরি
  10. জাতীয়
  11. ট্যুরিজম
  12. দেশজুড়ে
  13. ধর্ম
  14. নির্বাচন
  15. প্রবাসের খবর

শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দখল হওয়া জমি উচ্ছেদ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অবৈধ মার্কেট ও স্থাপনা

দৈনিক গণআওয়াজ
মে ১৬, ২০২৬ ২:১০ অপরাহ্ণ
| 148
Link Copied!

এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ

বগুড়ার শিবগঞ্জ-এ দীর্ঘ চার দশক ধরে দখলে থাকা শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়-এর প্রায় ৪১ শতক সরকারি জমি অবশেষে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১৬ মে ২০২৬) সকাল থেকে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে বিদ্যালয়ের জায়গার ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ মার্কেট, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।

স্কুলে দখল হওয়া জমি উদ্ধার

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের এই মূল্যবান জমিটি দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে একটি প্রভাবশালী মহল জোরপূর্বক দখল করে ভোগদখল করে আসছিল। বর্তমানে জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, দখলদারদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হকও ছিলেন। তার দখলেই ছিল প্রায় ২০ শতক জমি।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহুবার জমি উদ্ধারের দাবি জানালেও প্রভাবশালী মহলের কারণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। বরং দখলদাররা সেখানে মার্কেট ও বাসাবাড়ি নির্মাণ করে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, গত ১১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় কয়েকজন সদস্য বিষয়টি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির নজরে আনেন। অভিযোগ শুনে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তদন্তে সরকারি জমি দখলের সত্যতা পাওয়া গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।

উদ্ধারের সময় প্রশাসনের উপস্থিতি

শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া অভিযানে দখলকৃত জমির ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়। অভিযানের সময় বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে “ঐতিহাসিক” বলে অভিহিত করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, “আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপনের পর প্রতিমন্ত্রী মহোদয় গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি আমলে নেন এবং তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তদন্তে দখলের সত্যতা পাওয়ার পরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিদ্যালয়ের জমিটি বেদখলে ছিল। অবশেষে তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”

আরও পড়ুনঃ  ৬ দফা দাবিতে চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত

এ বিষয়ে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, “এটি ছিল বিদ্যালয়ের অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। কিন্তু একটি অসাধু চক্র জায়গাটি দখল করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। প্রশাসনের এ উদ্যোগ সরকারি সম্পদ রক্ষায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “স্কুলের জমি উদ্ধারের জন্য আমরা বহু জায়গায় ধর্না দিয়েছি, কিন্তু কোনো ফল পাইনি। অবশেষে জায়গাটি উদ্ধার হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।”

তবে অভিযুক্ত দখলদারদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের অবসানে বিদ্যালয়ের হারানো সম্পদ ফিরে পাওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একইসঙ্গে সরকারি সম্পদ উদ্ধারে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান জনমনে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • BD IT HOST

  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST