প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৭, ২০২৬, ৩:২৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ২, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
কমলনগরে কলেজছাত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

হাবিবুর রহমান,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে নুসরাত জাহান সুমাইয়া (২১) নামে কলেজপড়ুয়া এক ছাত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে স্বামীসহ শ্বশুর পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে পুলিশ ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন। উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরকাদিরা এলাকায় সংঘটিত এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্বামী সজিব আহমেদ জয়কে (২৫) আটক করলেও শাশুড়িসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা গা-ঢাকা দিয়েছেন। নিহত কলেজছাত্রী সুমাইয়া উপজেলার হাজিরহাট এলাকার আবুল কালাম হায়দারের মেয়ে। সে স্থানীয় হাজিরহাট উপকূল সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, একই কলেজে পড়ার সুবাধে সুমাইয়ার সঙ্গে উপজেলার দক্ষিণ চরকাদিরা এলাকার মৃত আলমগীর হোসেনের ছেলে সজিব আহমেদ জয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর জের ধরে পরিবারকে না জানিয়ে আড়াই বছর আগে তারা দু’জনে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিষয়টি জয়ের পরিবার ভালোভাবে নেয়নি। এজন্য শাশুড়িসহ পক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময়ে সুমাইয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করায় সংসারে অশান্তি লেগে থাকতো। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের অভিভাবকদের বেশ কয়েকবার পারিবারিক বৈঠকও হয়।
এদিকে, শুক্রবার বিকেলে জয় সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় করে সুমাইয়ার মৃতদেহ নিয়ে শ্বশুর বাড়ির দড়জায় আসে। এসময় সে দেড় বছরের কন্যা সন্তানকে ওই বাড়িতে রেখে সুমাইয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়েছে-এমন কথা বলে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
লক্ষ্মীপুর স্টার কেএস নামে ওই হাসপাতালে সুমাইয়াকে মৃত ঘোষণা করা হলে জয় তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান এবং সুমাইয়া গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার চালায়। খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধারসহ ঘটনাস্থল থেকে জয়কে আটক করে থানায় নিয়ে যান। গা-ঢাকা দেওয়ায় এসময় পরিবারের অন্য কেউ বাড়িতে ছিলেন না।
নিহতের বাবা আবুল কালাম হায়দার জানান, পরিবারের অমতে বিয়ে করায় শাশুড়িসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা সুমাইয়াকে নানানভাবে নির্যাতন করতো। তাদের পাশাপাশি স্বামীর নির্যাতনেরও শিকার হতে হতো সুমাইয়াকে। বিষয়টি বাড়ির লোকজনও অবগত। সম্প্রতি সম্পত্তি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে শাশুড়ি ও ভাসুর এজন্য সুমাইয়াকে দায়ী করেন। এনিয়ে তারা সুমাইয়াকে গালমন্দ করাসহ মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। এসবের প্রতিবাদ করায় স্বামীসহ শাশুড়ি, ভাসুর ও ভাসুরের স্ত্রী শ্বাসরোধ করে সুমাইয়াকে হত্যা করে পরে আত্মহত্যার অপপ্রচার চালায়।
তিনি বলেন, এটি একটি নিশ্চিত হত্যা কারণ, নিহতের গলায় নখের আঁচড়ের চিহ্ন রয়েছে। তাছাড়া আত্মহত্যাকারীর শরীরে সাধারণত যেসব লক্ষণ থাকে এসবের কিছুই সুমাইয়ার শরীরে নেই। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করছি।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের স্বামীকে আটক করা হয়েছে; তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শনিবার সকালে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস আর নিরব। Office: ২০৫/৪, খান প্লাজা, (লিফটে ৭ রুম নং -৯ সি) ফকিরাপুল, কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০, Mobil: 01713-086019
ই-পেপার