মোঃ রাসেদুজ্জামান শুভ | স্টাফ রিপোর্টার
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি কিছু মিডিয়াকে 'ভূমিদস্যুর পত্রিকা' আখ্যা দিয়ে প্রমাণ দেখাতে বলেন।
যা বললেন আসিফ নজরুল
পোস্টে তিনি লেখেন — "ভূমিদস্যুদের পত্রিকাগুলো আমার এবং আরও কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে নেমেছে। সাক্ষ্য নেই, প্রমাণ নেই — যা খুশি লিখে যাচ্ছে তারা।"
তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি উদ্ভট দাবি তোলা হয়েছে। একটি ভুঁইফোঁড় অনলাইন মিডিয়া দাবি করে তিনি ১৫ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন — যা পরে ১০০ কোটিতে নেমে আসে। এরপর দাবি আসে ইস্কাটনে সন্তানের নামে বাড়ি কেনার।
"চ্যালেঞ্জ করলাম, সেই বাড়ি কেনার ডকুমেন্ট দেখান পারলে! যদি পারেন, আপনাদের সব অভিযোগ মাথায় পেতে নেব।" এভাবেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।
নিজের জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, "আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে থাকি, কাঁচাবাজারে গিয়ে কমদামী জিনিষ কিনি, অধিকাংশ সময় রিকশায় চড়ে চলাফেরা করি।"
পটভূমি: কী কী অভিযোগ উঠেছিল
সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠতে শুরু করে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারওয়ার হোসেন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দাখিল করেন যে ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিলের মধ্যে ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে, এবং প্রায় ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের পদ পেয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, একটি সুবিধাজনক পোস্টিংয়ের বিনিময়ে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হতো।
দুদকে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে ডজনখানেকেরও বেশি অভিযোগ দাখিল হয়েছে — যার মধ্যে আছে মামলা পরিচালনা, জামিন সিদ্ধান্ত, বিচারিক পদায়ন, অর্থপাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ। সব অভিযোগ বর্তমানে যাচাই-বাছাই পর্যায়ে আছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য ও আসিফ নজরুলের অবস্থান
আসিফ নজরুল জানান, নতুন সরকারের আইন মন্ত্রণালয় নিজেই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে কোনো অনিয়ম হয়নি — আগে যেমন হতো, ঠিক সেভাবেই বদলি হয়েছে, এবং অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আবেদনের ভিত্তিতেই তা হয়েছে।
"সরকারে থাকা অবস্থায়, আগে কিংবা পরে — জীবনে কখনো এক টাকার দুর্নীতিও করিনি। আমি কোনো নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলিনি, নতুন সম্পদ অর্জন করিনি, কর ফাইলিংয়ে কোনো সম্পদ গোপন করিনি।"
নিউ এজকে তিনি বলেন, অভিযোগে অনেক 'মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর' তথ্য আছে। তিনি পূর্ণ তদন্ত সমর্থন করেন এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান।
বাংলাদেশে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাত্র সাত দিনের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় সব সদস্যের বিরুদ্ধে শত শত দুর্নীতির অভিযোগ দুদকের টেবিলে জমা পড়েছে — যা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান পরিস্থিতিকে "অত্যন্ত স্পর্শকাতর" বলে উল্লেখ করেছেন।
সর্বশেষ অবস্থান
ফেসবুক পোস্টের শেষ দিকে আসিফ নজরুল লেখেন: "ভূমিদস্যু ভাই, আপনাদের তো অনেক ক্ষমতা, অনেক সাংবাদিক, অনেক প্রভাব। আমার আছে একটা কলম, আপনাদের হাজার হাজার।"
এই কথাগুলো সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং নানা মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দুদক এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়নি। সব অভিযোগ যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস আর নিরব। Office: ২০৫/৪, খান প্লাজা, (লিফটে ৭ রুম নং -৯ সি) ফকিরাপুল, কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০, Mobil: 01713-086019