প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ১০, ২০২৬, ১:২৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
৩ দিনে ধ্বংস হবে ইরানের তেল পাইপলাইন, ট্রাম্পের বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের তেল খাত এবং অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে দেওয়া এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের ফলে ইরানের তেল পাইপলাইনে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তেল রপ্তানি বন্ধ থাকায় পাইপলাইনের ভেতরে চাপ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীন বা নিরপেক্ষ প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হলেও পাইপলাইন ‘ভেতর থেকে বিস্ফোরিত’ হওয়ার মতো পরিস্থিতি খুবই অস্বাভাবিক এবং প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। সাধারণত উৎপাদন কমিয়ে বা বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এ ধরনের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়ানোর বিষয়টি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের তেল রপ্তানি সীমিত করতে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। এতে ইরানের অর্থনীতি চাপে পড়লেও দেশটি বিকল্প বাজার ও কৌশল ব্যবহার করে কিছুটা ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
সাম্প্রতিক সময়ের উত্তেজনার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিশ্বে রপ্তানিকৃত তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এদিকে কূটনৈতিক পর্যায়ে অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় আলোচনা চালানোর চেষ্টা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধানের অগ্রগতি হয়নি। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের কঠোর বক্তব্য এবং পাল্টাপাল্টি চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এতে কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে উত্তেজনা উসকে দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল এবং বহুস্তরীয়। কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া এই সংকট দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস আর নিরব। Office: ২০৫/৪, খান প্লাজা, (লিফটে ৭ রুম নং -৯ সি) ফকিরাপুল, কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০, Mobil: 01713-086019
ই-পেপার