এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় পাওনা টাকার দাবিতে এক বিধবা বৃদ্ধার ঘরে তালা লাগিয়ে তার দুটি গরু টেনে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপায়ান্তর না পেয়ে ভুক্তভোগী বৃদ্ধা থানায় অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদরের শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ মরিয়ম বেগম (৬৫)। প্রায় পাঁচ মাস আগে বার্ধক্যজনিত কারণে তার স্বামী মোহাম্মদ আলী সরকার মারা যান। স্বামীর রেখে যাওয়া একটি গাভীর দুধ বিক্রি করেই চলছিল তার সংসার।
মরিয়ম বেগমের ছেলে রফিকুল ইসলাম বাড়ির পাশে একটি সমবায় সমিতি পরিচালনা করতেন, যেখানে কিস্তির মাধ্যমে টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করা হতো। কিছুদিন আগে ওই সমিতির ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যাতে টিভি, ফ্রিজসহ অনেক মালামাল পুড়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সমিতির কিছু গ্রাহক - একই গ্রামের মৃত হারেজের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৫৫), জালুর স্ত্রী মোছাঃ পদ্দ বেগম (৩৫), নবজামের স্ত্রী মোছাঃ মাবিয়া বেগম (৪০), রাজ্জাকের স্ত্রী মোছাঃ রহিমা বেগম (৩৫), ছামছুলের স্ত্রী মোছাঃ নারগিস বেগম (৫৫) এবং রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ সাহানারা বেগম (৫৫) - গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রফিকুল ইসলামকে না পেয়ে তার বাড়িতে যান। সেখানে তারা মরিয়ম বেগমকে লাঞ্ছিত করে তার গাভী ও বাছুরসহ ঘরে থাকা টাকা-পয়সা ও মালামাল নিয়ে যায় এবং ঘরে তালা দিয়ে চলে যায়।
ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম বলেন, “আমি আলাদা থাকি, ছেলের সঙ্গে তাদের কী লেনদেন তা জানি না। কিন্তু তারা এসে আমাকে মারধর করে আমার গরু-বাছুর জোর করে নিয়ে গেছে। আমার স্বামী নেই, ওই গরুর দুধ বিক্রি করেই আমার সংসার চলে।” তিনি জানান, ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়ায় সেদিন রাতে বারান্দায় অবস্থান করতে হয়েছে তাকে।
অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, “আমরা পাওনা টাকা পাই। তাই গরু নিয়ে এসে আটকে রেখেছি। তার ছেলে টাকা দিলেই গরু ফেরত দেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের আশায় মরিয়ম বেগম বিভিন্ন স্থানে ধর্ণা দিচ্ছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস আর নিরব। Office: ২০৫/৪, খান প্লাজা, (লিফটে ৭ রুম নং -৯ সি) ফকিরাপুল, কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০, Mobil: 01713-086019