
নিজস্ব প্রতিবেদক,
মাদারীপুরে দিনরাত মিলিয়ে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বেড়েছে চরম দুর্ভোগ। একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বিপাকে সাধারণ মানুষ।তাছাড়া এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও পড়েছেন আরও বিপাকে।চলছে না প্রেসের চাকা, ঘুরছে না ফ্যান। অলস সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।জানা গেছে, মাদারীপুরের শহর থেকে গ্রাম, সবখানেই হরহামেশাই যাওয়া-আসা করছে বিদ্যুৎ।সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ বেড়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানার উৎপাদন নেমে গেছে অর্ধেকে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) ৩৩ হাজার গ্রাহকের ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ১২ মেগাওয়াট। অপরদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় চার লাখ গ্রাহকের ৯৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫২ মেগাওয়াট। ৮০টি সাবস্টেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করে লোডশেডিং ভাগ করছে কর্তৃপক্ষ।
এসএসসি পরীক্ষার্থীরা জানায়, লোডশেডিংয়ের কারণে লেখাপড়ায় ভীষণভাবে ব্যাঘাত ঘটছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে বসে থাকা দুর্বিষহ। লোডশেডিংয়ের কারণে চার্জার ফ্যান ঠিকমতো চার্জ হতে পারে না।জেলার মৈত্রী মুদ্রণ প্রেসের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে ছাপাখানায় উৎপাদন কমে গেছে। ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। দিনে ও রাতে সব সময়ই লোডশেডিং হচ্ছে।
ব্যবসায়ী তৈয়ব মাতুব্বর বলেন, গরমে দোকানে কেনাবেচা করা যাচ্ছে না। ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে। আমরা লোকসানে পড়ে গেছি।মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম, কারিগরি) অসিত সাহা জানান, এলাকা অনুযায়ী লোডশেডিং বাড়ে ও কমে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে,ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) মাদারীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, চাহিদার চার ভাগের তিন ভাগ বিদ্যুৎ মিলছে। গরম বেশি হওয়ায় বিদ্যুতের ব্যবহারও বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে কিছু সময়ের জন্য লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।


