হাবিবুর রহমান
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে গভীর নলকূপ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে গৃহবধূর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন। পারুল বেগম নামে ভুক্তভোগী ওই নারী উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড এলাকার আবুল কালামের স্ত্রী। অপরদিকে, অভিযুক্তের নাম মো. হারুনুর রশিদ। তিনি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অফিস সহকারী। সম্প্রতি তিনি কমলনগর উপজেলা থেকে ফেনীর ফুলগাজীতে বদলি হন।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, দেড় বছর আগে হারুন গভীর নলকূপ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ‘অফিস খরচের’ কথা উল্লেখ করে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। এর প্রেক্ষিতে প্রথমে তিনি হারুনকে পাঁচ হাজার টাকা নগদ প্রদান করেন। কিছুদিন পর হারুন বাকী টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তিনি ধারদেনা করে আরও ১৫ হাজার টাকা দেন। এর পর নলকূপ দিবে-দিচ্ছে বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। বিন্তু দেড় বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তিনি তা পাননি। বিষয়টি জানার জন্য হারুনকে মুঠোফোনে বারবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরছেন না।
তিনি বলেন, ফোন রিসিভ না করায় সোমবার বিষয়টি নিয়ে হারুনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে কমলনগর উপজেলা এলজিইডি অফিসে যাই। কিন্তু সেখানে গিয়ে শুনতে পাই হারুন ওই অফিস থেকে বদলি হয়ে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় চলে গেছেন। তখন হতাশ হয়ে তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী নারীর মেয়ে পিংকী বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছিলেন। এ অবস্থায় হারুন তাদের পূর্বপরিচিত হওয়ায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সরকারি বরাদ্দ থেকে একটি গভীর নলকূপ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে এর জন্য ‘খরচ’ বাবদ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। উপায়ান্তু না দেখে তারা ওই টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার দেড় বছর পার হলেও তারা নলকূপ পাননি। এতে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে শুধু ওই নারীই নয়, গভীর নলকূপ, পুল-কালভার্ট, পুকুরের ঘাটলা নির্মাণ করে দেওয়ার কথা বলে এভাবে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে হারুন বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজ উপজেলায় চাকুরী করার সুবাদে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে বিভিন্ন লোকজনকে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তিনি এসব অনিয়ম করেন। কমলনগর উপজেলা থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় বিষয়গুলো এখন প্রকাশ্যে আসছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা এলজিইডি অফিসের এক কর্মী জানান, হারুন এলাকার প্রভাব দেখিয়ে অফিসে বেপরোয়া অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন। তার ভয়ে ঠিকাদারসহ অন্যরা কথা বলার সাহস করতো না। তবে, সম্প্রতি অফিসের তথ্য পাচারের অভিযোগে তাকে ফেনীর ফুলগাজীতে বদলি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নলকূপ পাইয়ে দেওয়ার জন্য পারুল বেগমের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ওই টাকা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি কিছু দিনের মধ্যে তারা নলকূপ পেয়ে যাবেন।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মুজাহিদ বলেন, অভিযোগটি পেয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
হাবিবুর রহমান
লক্ষীপুর প্রতিনিধিঃ
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস আর নিরব। Office: ২০৫/৪, খান প্লাজা, (লিফটে ৭ রুম নং -৯ সি) ফকিরাপুল, কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০, Mobil: 01713-086019