প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ২৫, ২০২৬, ৮:১৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১:৪১ অপরাহ্ণ
বগুড়া সিটি করপোরেশনের উদ্বোধন: নতুন নগর ভবিষ্যতের পথে

এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বগুড়া সিটি করপোরেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের সিটি করপোরেশনের তালিকায় যুক্ত হলো উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই শহর।
সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকালে বগুড়ায় পৌঁছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে ‘ই-বেইল বন্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বগুড়াকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহরজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়। বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় নাগরিকদের। দীর্ঘদিন ধরে বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দাবিতে সোচ্চার নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও পেশাজীবীরা এ সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছেন।
বগুড়া দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত এ শহর উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র। কৃষিপণ্য সরবরাহ, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আশপাশের বহু জেলা বগুড়ার ওপর নির্ভরশীল। তবে সে তুলনায় নগর সেবার পরিধি সীমিত ছিল বলে দীর্ঘদিন অভিযোগ ছিল নাগরিকদের।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভা দেশের প্রাচীন পৌর প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এর আয়তন বৃদ্ধি পায়। ২০০৬ সালে আশপাশের ৪৮টি মৌজা যুক্ত করে পৌর এলাকার আয়তন প্রায় ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করা হয়। এরপর থেকেই এটিকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, সিটি করপোরেশন মর্যাদা পাওয়ায় এখন বৃহৎ পরিসরে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সড়ক সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্ট্রিট লাইটিং এবং ডিজিটাল নাগরিক সেবা সম্প্রসারণে গতি আসতে পারে। পাশাপাশি সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
তবে সচেতন নাগরিকরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু ঘোষণাই যথেষ্ট নয়—কার্যকর বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ। বগুড়ার দীর্ঘদিনের যানজট, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত বাজার ব্যবস্থা, বাস টার্মিনালের সংকট এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান জরুরি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, সিটি করপোরেশন মর্যাদা পাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ, আবাসন, শিল্প এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
সোমবারের এই দিনটি তাই বগুড়াবাসীর কাছে শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং একটি নতুন নগর ভবিষ্যতের সূচনা। এখন দেখার বিষয়, নতুন পরিচয়ে কত দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বদলে যায় উত্তরাঞ্চলের এই ব্যস্ত শহর।
এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে বগুড়ার সার্কিট হাউজে পৌঁছান। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি জেলা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন এবং আদালতের ‘ই-বেইল বন্ড’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস আর নিরব। Office: ২০৫/৪, খান প্লাজা, (লিফটে ৭ রুম নং -৯ সি) ফকিরাপুল, কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০, Mobil: 01713-086019
ই-পেপার