
এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
ডিজেলচালিত ভটভটি গাড়ির ওপর নির্ভর করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই যানবাহনটি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় যাতায়াতের অন্যতম সহজ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে ভটভটির জনপ্রিয়তা এখনও অটুট।
শুধু যাতায়াতেই নয়, কৃষিপণ্য পরিবহন, বাজারে পণ্য সরবরাহ এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনেও ভটভটি গাড়ির গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে এই যানবাহনটি গ্রামীণ জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডিজেলের তীব্র সংকট এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় অনেক চালক বাধ্য হচ্ছেন তাদের গাড়ি বন্ধ রাখতে। এতে প্রতিদিনের আয় কমে যাচ্ছে, যা সরাসরি তাদের পরিবার-পরিজনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ভটভটি গাড়ির মালিক ও চালকদের অভিযোগ, আগের মতো সহজে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না; আর পেলেও তা কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। এতে পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেলেও আয় একই থাকায় তারা চরম আর্থিক চাপে পড়ছেন। অন্যদিকে যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়া এবং ভাড়ার সীমাবদ্ধতার কারণে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প পেশার কথা ভাবছেন, যা গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক সংকেত।
এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টদের জোর দাবি, দ্রুত ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং ন্যায্যমূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি ভটভটি চালকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, প্রণোদনা এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ভটভটি গাড়িচালকদের টিকিয়ে রাখতে হলে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় এই খাতের অবনতি গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।


