প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ১:২৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১২, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা পাওয়ার আশায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে বিপদে পড়েছে ভূল্লী উপজেলার দেবীপুরের গ্রামবাসী

আব্দুর রাজ্জাক বাপ্পী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
প্রতারকচক্র সাধারণ মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ছবি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অ্যাকাউন্ট খুলে অবৈধ আর্থিক লেনদেন চালিয়েছে। এখন সেসব অ্যাকাউন্টে অবৈধ লেনদেনের কারণে বিভিন্ন জেলায় দায়ের হওয়া মামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি নিরীহ পরিবার।ঘটনাটি ঘটে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নে। পঞ্চগড় জেলার পাশের এলাকার অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীর বলরামপুর আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে।উপবৃত্তি দেওয়া হবে জানিয়ে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দেওয়া হয় বিদ্যালয় থেকে। উপবৃত্তির নির্দেশ পেয়ে পঞ্চগড়ের লিলারহাটে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এজেন্ট শাখার পরিচালক রবিউল ইসলামের কাছে ভোটার কার্ড ও ছবি জমা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর পরিবার। ঠিক একইভাবে দেবীপুর ইউনিয়নের অনেক অভিভাবক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির জন্য ওই ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় উপবৃত্তির অ্যাকাউন্ট খোলেন। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার পর কিছু শিক্ষার্থী শুধু এক দফায় উপবৃত্তির টাকা পেলেও অনেকেই কোনো টাকা পায়নি।জানা গেছে, অ্যাকাউন্ট খোলার দীর্ঘ ছয়-সাত মাস পর দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রামের বেশ কয়েকজনের কাছে নোটিশ আসতে থাকে।তাদের বাড়ি গিয়ে দেখা যায় তাদের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে অ্যাকাউন্ট খুলে বড় অঙ্কের অনৈতিক আর্থিক লেনদেন করা,এনআইডি ও ছবি ব্যবহার করে প্রতারকচক্রের অবৈধ লেনদেন হয়েছে মর্মে কয়েকটি পরিবারের কাছে নোটিশ আসার পর মামলার পর পালিয়ে বেড়াচ্ছে গ্রামের সাধারণ মানুষ।ইতিমধ্যেই এজেন্ট ব্যাংক শাখা পরিচালকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
অথচ এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা কিছুই জানত না। নোটিশ আসার কিছুদিন পর ভুক্তভোগীদের নামে দেশের বিভিন্ন জায়গায় একটার পর একটা মামলা হতে থাকে। প্রতারণার ফাঁদে পড়ে দেবীপুর গ্রামের অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মামলার শিকার হয়েছেন। পরিবার-পরিজন রেখে আইনি ঝামেলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেক উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এখন ঘরছাড়া। ফলে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে আর্থিক অনটন।এ ঘটনার পর থেকেই ওই ব্যাংকের এজেন্ট শাখার পরিচালক রবিউল ইসলাম কার্যক্রম বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। তাই একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও এই এজেন্ট শাখার অভিযুক্ত পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয়দের সরলতার সুযোগে রবিউল ব্যাংকিং অ্যাপ ও বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে গোপনে অতিরিক্ত হিসাব চালু করেন। সঠিক নজরদারি না থাকায় চক্রটি আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধ বা অনলাইন জুয়ার অবৈধ লেনদেনে এসব ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকরেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।দেবীপুরের বাসিন্দা ভুক্তভোগী সাহাদাত হোসেন জানান, তাঁর ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক বলরামপুর আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। উপবৃত্তির নির্দেশ পেয়ে সেই ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটে একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন সাহাদাত হোসেন। ওই অ্যাকাউন্টে একবার আট হাজার টাকা উপবৃত্তি এলেও পরে আর কোনো টাকা আসেনি। তবে প্রায় সাত মাস পর সাহাদাত মামলার শিকার হয়েছেন। এখন মামলার ভয়ে তাঁকে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।আরেক ভুক্তভোগী ইউনুস আলী বলেন, 'সন্তানের উপবৃত্তির টাকা পাওয়ার আশায় ওই ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে আমি এখন মামলার আসামি। পুলিশের ভয়ে দিনে কাজ করতে পারি না, রাতেও বাড়ি ফিরতে পারি না।'এ বিষয়ে ওই ব্যাংকের ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার তানিয়া সাত্তার বলেন, 'আমরা বিষয়টি নিয়ে অবগত আছি। এরই মধ্যে অভিযুক্ত এজেন্ট শাখা পরিচালকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তার লাইসেন্স বাতিল করা হয়। সেই সঙ্গে আর কোথাও যেন এ রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যে আমাদের সাইবার সিকিউরিটি পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে।'
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থানার ওসি মতিয়ার রহমান জানান, ভুক্তভোগীদের পক্ষে বাদী হয়ে সাহাদাত হোসেনের দায়ের করা মামলাটি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। অপরাধের ধরন বিবেচনায় প্রয়োজনে পুলিশ সদর দপ্তর ও সিআইডিকে বিষয়টি অবগত করা হবে। মামলার প্রধান আসামি রবিউল ইসলামসহ চক্রের অন্যদের গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর একাধিক টিম অভিযান অব্যাহত রেখেছে।'
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস আর নিরব। Office: ২০৫/৪, খান প্লাজা, (লিফটে ৭ রুম নং -৯ সি) ফকিরাপুল, কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০, Mobil: 01713-086019
ই-পেপার