প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ১২:৫৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
তালায় পান চাষে বাঁধা, অর্ধকোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা!

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালায় ৬ বিঘা জমির পান চাষের বাঁধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। পানের বরজে কর্মরত শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। প্রবেশ পথ আটকিয়ে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ ঢুকলে জীবননাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা করছে ভুক্তভোগী পরিবার।সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, উপজেলার জালালপুর গ্রামের মৃত্যু সন্তোষ দাশের স্ত্রী অনিমা রাণী দাশ স্বামীর মৃত্যুর পরে থেকে জালালপুর মৌজার ৭৩৭ নং খতিয়ানে ২১৬৮, ২১৬৫ ও ২১৭৩ দাগের ২ একর জমির মধ্যে নিজ নামে ৪ বিঘা, বড় ছেলে ইন্দ্রজীৎ নামের ১ বিঘা ও অভিজিতের নামের ১ বিঘা জমিতে পান চাষ করে আসছেন। স্বামীর মৃত্যুর পরে থেকেই তিনি পরিবারের সকল সম্পত্তি দেখাশোনা ও চাষাবাদ করেন।প্রতিদিনের ন্যায় তালার ধুলান্ডা গ্রামের আনার আলী, আবুল হোসেন, জালালপুর গ্রামের আনন্দ দাশ, হরেকৃষ্ণ দাশ ও বিশ্বনাথ হালদার বরজে কাজ করছিলেন। এসময় কোনো কারণ ছাড়াই জালালপুর গ্রামের মৃত্যু আনছার কারিগরের ছেলে মহিউদ্দিন কারিগর, শাহাবুদ্দিন কারিগর, মৃত্যু কালিপদ ঘোষের ছেলে হরিপদ ঘোষ (বাবু), রণজিৎ হালদারের স্ত্রী শিলু হালদার, নেহালপুর গ্রামের আনার গাজীর ছেলে মহাসিন গাজী, জেঠুয়া গ্রামের মেছাব্বার গাজীর ছেলে আসাদুল গাজী, মোছাব্বারর গাজী, মাসুম গাজী, মনিরুল ইসলামের স্ত্রী রোকেয়া বেগম, শ্রীমন্তকাটি গ্রামের মৃত্যু রণজিৎ কর্মকারের ছেলে দুলাল কর্মকার সংঘবদ্ধ হয়ে পানের বরজে হানা দিয়ে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেয়। এসময় তাদের বরজ থেকে বের করে দিয়ে প্রবেশমুখে কাঁটা বেঁধে দেয় এবং বরজে ঢুকলে হত্যা করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।সূত্র জানায়, পানের বরজে প্রতিদিন পরিচর্যা না করলে নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পরিচর্যা বন্ধ থাকার কারণে পান ও লতা মরতে শুরু করেছে। এখন যদি পরিচর্যা করতে না পারে তাহলে সম্পূর্ণ বরজ নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে অর্ধকোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়বে পরিবারটি।বরজের শ্রমিক আনার আলী বলেন, আমরা সারা বছর এই পানের জমিতে কাজ করি। ঘটনার দিন বাবু ঘোষ, মহিউদ্দিন কারিগর, শাহাবুদ্দিন কারিগর সহ ৮/১০ জন লোক এসে আমাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে কাজ বন্ধ করে দেয়। এবং ভবিষ্যতে বরজে আসলে দেখ নেয়ার হুমকি দেয়।অভিযুক্ত হরিপদ (বাবু) ঘোষ, আসাদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা টাকা পাব, দেয়না বলে বরজে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।ক্ষতিগ্রস্থ অনিমা রাণী দাশ বলেন, আমার বড় ছেলে ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকে, ছোট ছেলে ঢাকায় চাকরী করে। আমার স্বামীর মৃত্যুর পরে থেকে চাষাবাদ সহ পরিবারের দ্বায়িত্ব পালন করি। আমার বাড়ির সাথেই ৬ বিঘা জমিতে পান চাষ করি।
গত মাসের ২৬ তারিখে আমার জমিতে শ্রমিকরা কাজ করার সময় জালালপুর গ্রামের মৃত্যু আনছার কারিগরের ছেলে মহিউদ্দিন কারিগর, শাহাবুদ্দিন কারিগর, মৃত্যু কালিপদ ঘোষের ছেলে হরিপদ (বাবু) ঘোষ, রণজিৎ হালদারের স্ত্রী শিলু হালদার, নেহালপুর গ্রামের আনার গাজীর ছেলে মহাসিন গাজী, জেঠুয়া গ্রামের মেছাব্বার গাজীর ছেলে আসাদুল গাজী, মোছাব্বার গাজী, মাসুম গাজী, মনিরুল ইসলামের স্ত্রী রোকেয়া বেগম, শ্রীমন্তকাটি গ্রামের মৃত্যু রণজিৎ কর্মকারের ছেলে দুলাল কর্মকার সংঘবদ্ধ হয়ে পানের বরজে এসে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেয়। এসময় তাদের বরজ থেকে বের করে দিয়ে প্রবেশমুখে কাঁটা বেঁধে দেয় এবং বরজে ঢুকলে হত্যা করার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এই ঘটনায় আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। তারা কাজ বন্ধ করে দেয়ার কারণে বরজ পরিচর্যা করা যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে বরজ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। তাতে আমার ৫০ লক্ষ টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস আর নিরব। Office: ২০৫/৪, খান প্লাজা, (লিফটে ৭ রুম নং -৯ সি) ফকিরাপুল, কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০, Mobil: 01713-086019
ই-পেপার