প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১:১২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
কয়রায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি জনবল নিয়োগে দলীয় করণ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:মোঃ রউফ :
আমরা কিছু জানিনা সব করেছে (ইউএনও) স্যার,খুলনার কয়রা উপজেলায় সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ কার্যক্রমে জনবল নিয়োগকে ঘিরে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠছে আবেদনের সময়সীমা নিয়ে জটিলতা, গভীর রাতে ভাইভা পরিক্ষা গ্রহণ এবং ফলাফল প্রকাশে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।নিয়োগের ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ আবেদনকারীরা।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের পর কয়রা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংবাদিক মো. ইউনুস আলী তার নিজস্ব ফেসবুক একাউন্টে লিখেছেন, “ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ এর ফলাফল রাত তিনটা পর্যন্ত ভাইভা নিয়ে নাটক করার দরকার কি ছিল? সরাসরি নেতার সুপারিশ বাস্তবায়ন করতেন।আরেক কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসানও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।তিনি তার ফেসবুক একাউন্টে ইউএনওকে উদ্দেশ করে লেখেন, “ফাজলামির একটা লিমিট থাকে। মেধাবী বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ২/১ জনের কথা মতো যা সিলেক্ট আপনি করলেন।এটা সম্পূর্ণ বেমানান।”এছাড়া পাপিয়া সুলতানা নামে এক আবেদনকারী মন্তব্য করেন, “সবই রাজনীতির খেলা চলছে ভাইয়া।”নিয়োগের আগে হুমকির অভিযোগ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালে কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেহেদী হাসান সবুজের একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়েও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।সেখানে তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে অশালীন ও হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগকারীদের দাবি, ওই পোস্টের পরও মেহেদী হাসান সবুজ শেষ পর্যন্ত কয়রা সদর ইউনিয়নের সুপারভাইজার পদে নির্বাচিত হয়েছেন।তবে তার দাবি, তিনি নিয়ম মেনেই নিয়োগ পেয়েছেন।বিজ্ঞপ্তি ও ভাইভা নিয়ে প্রশ্নআবেদনকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গত ২৩ জুলাই প্রকাশ করা হলেও সেখানে ২১ জুলাইয়ের তারিখ উল্লেখ ছিল।আবেদনের শেষ সময় ২৬ জুলাই নির্ধারণ করা হলেও ২৪ ও ২৫ জুলাই সরকারি ছুটি থাকায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়ন নিয়ে অনেক প্রার্থী সমস্যায় পড়েন বলে অভিযোগ করেন।পরবর্তীতে ২ থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত টানা কয়েক রাত গভীর রাত পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাত ৩টা পর্যন্ত ভাইভা নেওয়া হয়েছে বলেও আবেদনকারীরা দাবি করেছেন।এ ছাড়া চূড়ান্ত ফলাফল শিটে ১৪ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর করা হলেও সেটি ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়।এ সময়ের ব্যবধান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন প্রার্থী।বিভিন্ন ইউনিয়নে দলীয় পরিচয়ের অভিযোগনিয়োগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগ পেয়েছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে।অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়রা সদর ইউনিয়নে মেহেদী হাসান সবুজ এবং মহারাজপুর ইউনিয়নে হারুন অর রশীদ সুপারভাইজার পদে নির্বাচিত হয়েছেন।মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সুপারভাইজার রোকনুজ্জামানের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, তিনি আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া আমাদী ইউনিয়নের যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলমের অভিজ্ঞতা ছাড়াই সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।বাগালী ইউনিয়নে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ভাইপো মনিরুলকে সুপারভাইজার এবং ছাত্রদল নেতা মামুনকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।অন্যদিকে, সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী আবু সাঈদের ভগ্নিপতি আব্দুর রহিমকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগের অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।এ বিষয়ে জানতে চেয়ে আবু সাঈদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের বিএনপি নেতার ভাতিজা তুহিন এবং দক্ষিণ বেদকাশীতে হাফিজুল্লাহ সুপারভাইজার পদে নির্বাচিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।ইউএনও কার্যালয়ের কর্মচারীর স্বজন নিয়োগের অভিযোগ গোবরা গ্রামের আবেদনকারী আসলাম হোসেন অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়া লাভলীর সুপারিশে তার মেয়ের জামাইকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।বিষয় টা নিয়ে কথা হয় কয়রা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের ফলাফল তৈরির পুরো প্রক্রিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তদারকির মাধ্যমে হয়েছে।তিনি আরও বলেন ভাইভা নেওয়া থেকে শুরু করে রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা পর্যন্ত সমস্ত কাজ ইউএনও স্যার নিজেই করেছেন। তিনি সবকিছু প্রস্তুত করে আমাদেরকে ডেকে পাঠালে বিকেলে আমরা ফলাফল প্রকাশ করি।”রেজাল্ট শিটে ১৪ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর এবং ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, দাপ্তরিক সুবিধার জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর করা হলেও ১৭ সেপ্টেম্বর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, “ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত কে কে উত্তীর্ণ হয়েছেন, সে বিষয়ে আমার নিজেরও কোনো ধারণা ছিল না। তাই বিস্তারিত তথ্যের জন্য সভাপতি ও ইউএনও স্যারই সঠিক উত্তর দিতে পারবেন।”ইউএনওর বক্তব্য পাওয়া যায়নি নিয়োগ প্রক্রিয়া, অভিযোগগুলো এবং ফলাফল তৈরির বিষয়ে বক্তব্য জানতে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল বাকীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন আবেদনকারীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস আর নিরব। Office: ২০৫/৪, খান প্লাজা, (লিফটে ৭ রুম নং -৯ সি) ফকিরাপুল, কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০, Mobil: 01713-086019
ই-পেপার