ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষার তিন ধারায় পাসের হারে বড় ব্যবধান দেখা গেছে। এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ হলেও দাখিলে ৪০ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তিন পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৩৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৩৩৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ জন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বোয়ালমারীর ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৭৩৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪ জন।
এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে বোয়ালমারী জর্জ একাডেমি থেকে ২৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৭৮ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯ জন। উপজেলায় এসএসসিতে এটিই সর্বোচ্চ জিপিএ-৫। এছাড়া কাদিরদি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৮২ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং হাসামদিয়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৭৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
অন্যদিকে, দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ১৭টি মাদরাসা থেকে ৪৬৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৯০ জন উত্তীর্ণ এবং ২৭৮ জন অকৃতকার্য হয়েছে। দাখিলে পাসের হার ৪০ দশমিক ৬০ শতাংশ। এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র দুজন।
দাখিল পরীক্ষায় সাতৈর জেড আই দাখিল সিনিয়র মাদরাসার ২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। আল হাসান মহিলা দাখিল মাদরাসায় ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে পাঁচজন। এখান থেকেও একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এদিকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উপজেলার পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬৮ জন উত্তীর্ণ এবং ১২৮ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ৩৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
ভোকেশনাল পরীক্ষায় শাহ জাফর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ইনস্টিটিউশনের ৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই ভোকেশনাল বিভাগে একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া গেছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বোয়ালমারীতে সাধারণ শিক্ষার এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাখিল ও ভোকেশনালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এসএসসি ও দাখিলের পাসের হারের ব্যবধান প্রায় ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ পয়েন্ট। আর এসএসসির সঙ্গে ভোকেশনালের ব্যবধান আরও বেশি। এতে উপজেলার মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষায় ফলাফল উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পাঠদানের মান এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক একাডেমিক ব্যবস্থাপনার দিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, তিন পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৩৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৩৩৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। সব মিলিয়ে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। তিন ধারায় মোট ৪৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।