
সমগ্র বিশ্বের পর্যটকদের কাছে এশিয়া এর দেশগুলোর একটা বিশেষ কদর আছে। একঘেয়েমি শীত প্রধান অথবা শুষ্ক আবহাওয়ায় অভ্যস্ত পশ্চিমা নাগরিকরা তাই এশিয়া এর উষ্ণ এবং আদ্র আবহাওয়ার ছোঁয়া পেতে দূর দুরান্ত থেকে ছুটে আসতে মোটেও দ্বিধা করে না। এখানকার আবহাওয়া, মানুষ জন এবং সংস্কৃতি সবই যেন তাদের কাছে নতুনত্ব বয়ে নিয়ে আসে। পশ্চিমারা সাধারণত এশিয়া তে আসে একটু উষ্ণ এবং মসলাদার স্বাদ পাবার জন্যে, সেটা পরিবেশ, মানুষ, প্রকৃতি বা খাবার যাই হোক না কেন। এশিয়া তাদের কখনই নিরাশ করেনি। এশিয়া তাঁর সীমাহীন বৈচিত্র্য দিয়ে বারবার পশ্চিমাদের মন জয় করে নিয়েছেন।
বিখ্যাত সংবাদ সংস্থা ইউএস নিউজ সম্প্রতি পর্যটকদের পছন্দের উপর ভিত্তি করে কাছে এশিয়া এর সবচাইতে জনপ্রিয় স্থানগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছে। আমরা সেই তালিকার ছায়া অবলম্বনে আপনাদের জন্যে নিয়ে এসেছি এশিয়া এর সবচাইতে জনপ্রিয় ৭টি শহরের বর্ণনা নিয়ে। আমরা শুরু এশিয়া করেছি সর্বোচ্চ জনপ্রিয় শহর থেকে।
এশিয়া কে পৃথিবীর বুকে সুপরিচিত করতে যে কয়টি রাষ্ট্রকে প্রধান কারন হিসেবে ধরা হয়, হংকং তাদের মধ্যে অন্যতম। প্রাক্তন এই ব্রিটিশ কলোনিটিকে চীনের প্রবেশদ্বার বলা যেতে পারে। তবে এখানকার মানুষজন এবং তাদের সংস্কৃতিতে চীনা প্রভাব থাকলেও তা চাইনিজদের থেকে অনেক আলাদা। দীর্ঘদিন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধিনে থাকার কারণে তাদের চলাফেরা, খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে প্রায় জীবনের সব ক্ষেত্রেই পশ্চিমা একটা প্রভাব খেয়াল করা যায়। পুরো হংকং শহর অনেক উন্নত এবং পরিকল্পিত উপায়ে তৈরি করা। ছোট এই এলাকার জনবসতি অনেক বেশী হলেও পর্যাপ্ত পরিকল্পনার কারণে এখানে নেই কোন ট্রাফিক জ্যাম বা অন্য কোন অব্যাবস্থা। নেই দুর্নীতি, নোংরা পরিবেশ অথবা নিরাপত্তাহিনতা। হংকং এর আরও প্রাকৃতিক পরিবেশ গুলো উপভোগ করতে চাইলে এর আশে পাশে ছড়ানো দ্বিপগুলোতে বেড়াতে যেতে হবে। এখানে পাবেন অনেক সুন্দর সব সৈকত এবং সব ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা।
সভ্যতা থেকে অনেকটা দুরেই অবস্থিত ভারত মহাসাগরের এই চমৎকার দ্বিপপুঞ্জ। প্রায় ১২০০ দ্বিপের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এই চমৎকার দেশটি। এখানকার প্রায় প্রতিটি দ্বিপেই আছে শুভ্র বালুকাময় সৈকত, কোরাল রিফ এবং সচ্ছ নীলাভ পানির এক অপূর্ব সমন্বয়। মালদ্বীপকে বলা হয় এশিয়াএর দ্বিতীয় চমৎকার পর্যটন কেন্দ্রও, চতুর্থ আরাম দায়ক সৈকত সমৃদ্ধ এলাকা ও পঞ্চম হানিমুন গন্তব্য!এখানকার সৈকত গুলো স্কুবা ডাইভিং এবং স্নরকেলিং করার জন্যে আদর্শ, যা আপনার মনকে বর্ণিল অভিজ্ঞতায় ভরে দিবে।
টোকিওকে বলা হয়ে থাকে এশিয়া এর তৃতীয় চমৎকার শহর। শুধু এশিয়া না বরং পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ এবং আধুনিক শহর বলা হয়ে থাকে এই টোকিওকে। একই সাথে দেশের রাজধানী এবং প্রধান শহর হবার কারণে এখনা এখানে জনবসতি ও ব্যাস্ততা অনেক বেশী। রাস্তায় অনেক ভিড় থাকে। সেদিক থেকে নতুন পর্যটকদের জন্যে অনেক সময় ঝামেলাময় কিছু পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু টোকিওর মত একটি শহরের অভিজ্ঞতা নিতে হলে আপনাকে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহন করতেই হবে। শহরের পুরোটাই আসলে অনেক মনমুগ্ধকর। এর পাশাপাশি জুকিজি মার্কেট, টোকিও ন্যাশনাল মিউজিয়াম ও মেইজি স্রাইনের মত অনেক দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের দুর্লভ অভিজ্ঞতা পাবেন।
ফুকেটকে বলা হয়ে থাকে পর্যটকদের কাছে এশিয়া এর চতুর্থ জনপ্রিয় শহর। এখানকার বড় আকর্ষণ হল এর মনমুগ্ধকর সৈকতগুলো এবং তাদের ছুয়ে থাকা সচ্ছ সবুজাভ পানি। এখনে পাবেন ঐতিহ্যবাহী কাঠের তৈরি লম্বা সব নৌকা। ঘুরতে ঘুরতে দেখতে পাবেন লাইমস্টোনের চমৎকার সব প্রাকৃতিক প্রতিকৃতি। আপনাকে মানসিক ভাবে ফ্রেশ করতে এ সব দৃশ্যই যথেষ্ট। এছাড়া দেখার মোট প্রম্থেপ কেপ, বিগ বুদ্ধা ও নাই হার্ন সৈকতের মোট জায়গা গুলোতো আছেই।
ইন্দোনেশিয়ার বালি সম্পর্কে যারা ভ্রমণ করেননি তারাও জানেন, এমনি এর সুখ্যাতি। এশিয়ার মধ্যে বালিকে বলা হয় পঞ্চম জনপ্রিয়স্থান। বালি তাঁর স্বভাবসুলভ সৌন্দর্য দ্বারা পর্যটকদের এতটাই মুগ্ধ করেছে যে তাঁরা এর একটা নামই দিয়ে ফেলেছে। সেটা হল ‘’পৃথিবীর বুকের স্বর্গ’ বা ‘’হেভেন অন আর্থ’। এখানকার মন মুগ্ধকর রেইন ফরেস্ট, চোখ চেয়ে দেখার মত পর্বতশ্রেণী, সুগভীর এবং সবুজে ঘেরা উপত্যকা একজন পর্যটকের সব ধরনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। আর শুভ্র বালুকাময় সৈকতের কথা না হয় বাদই এ রাখলাম। বালির সৈকতগুলো পৃথিবীর অন্যতম আকর্ষণীয় এর স্বচ্ছ নীলাভ পানির জন্যে যা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। বাকিটা পাঠকরা সহজেই অনুমান করে নিতে পারবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস আর নিরব। Office: ২০৫/৪, খান প্লাজা, (লিফটে ৭ রুম নং -৯ সি) ফকিরাপুল, কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০, Mobil: 01713-086019