প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৭, ২০২৬, ১২:৪৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ২৬, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
যশোরের ভবদহে ফের জলাবদ্ধতা:১৪০ কোটি টাকার প্রকল্পেও মেলেনি সুফল, পানিতে ডুবেছে ৫০ গ্রামের বেশি

এস আর নিরব (যশোর)
জুলাই মাসজুড়ে টানা বৃষ্টি ও নিম্নচাপের প্রভাবে যশোরের ভবদহ অঞ্চলে আবারও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ৫০টি গ্রামের বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক, ধর্মীয় উপাসনালয়, মাছের ঘের ও পুকুর। এতে অন্তত ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় এক লাখ মানুষ।
সরকার ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও চলতি বর্ষার শুরুতেই তা কার্যকর হয়নি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের আওতায় হরিহর, হরি-তেলিগাতি, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদীর মোট ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ চলছে। এর মধ্যে হরি-তেলিগাতি ও টেকা নদীর কিছু অংশের খনন শেষ হলেও জলাবদ্ধতা কমেনি।
সরেজমিনে ভবদহ সুইসগেটে দেখা গেছে, গেটের কপাট সচল নয়। চারটি পাওয়ার পাম্প চালু থাকলেও আরও পাঁচটি পাম্প স্থাপনের কাজ চলছে।
অভয়নগর উপজেলার ডহর মশিয়াহাটি, ডুমুরতলা, আন্দা, বলারাবাদ, বেদভিটা, চলিশিয়া, বারান্দী, দিঘলিয়া, দামুখালীসহ এবং মনিরামপুর উপজেলার আসানগর, কুশখালী, কামিনীডাঙ্গা, হাটগাছা, নেবুগাতি, পাঁচকাটিয়া, ভুলবাড়িয়া, সুজাতপুর, কুলটিয়া, মহিষদিয়া, আলীপুর, পোড়াডাঙ্গা, পদ্মনাথপুর, পাড়িয়ালী ও দহাকুলাসহ অন্তত ৫০টি গ্রামের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। অনেক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৩ সালের পর ভবদহ এলাকায় টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) চালু না থাকায় নদীতে পলি জমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আমডাঙ্গা খাল সংস্কার না হওয়া এবং সেখানে নির্মিত ত্রুটিপূর্ণ সেতুর কারণেও পানি দ্রুত নামতে পারছে না।
জলাবদ্ধতায় ডুমুরতলা-বেদভিটা, বলারাবাদ, আন্দা-বলারাবাদ, আন্দা-ডুমুরতলা এবং মশিয়াহাটি-সুন্দলী সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কয়েকটি এলাকায় যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ডুমুরতলা গ্রামের শিক্ষক শিবপদ বিশ্বাস বলেন, “আমাদের গ্রামের ১৫৫টি বাড়ির মধ্যে মাত্র ছয়টি ছাড়া সব বাড়ির উঠানে দুই থেকে তিন ফুট পানি উঠেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বাড়ি ছাড়তে হবে।”
হরিদাশকাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা দীপকর মণ্ডল বলেন, “ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের মধ্যে তিনটি গ্রামের অধিকাংশ এবং আরও কয়েকটি গ্রামের অনেক বাড়িতে পানি উঠেছে।”
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সদস্য হরিনাথ বিশ্বাস বলেন, বিলগুলো পানিতে থইথই করছে। মাছের ঘের ও ফসল তলিয়ে গেছে, প্রতিদিন নতুন নতুন বাড়িতে পানি ঢুকছে।
কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই ভবদহ এলাকা ডুবতে শুরু করেছে। টিআরএম চালু না করলে এ অঞ্চলের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে না।
এ বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস আর নিরব। Office: ২০৫/৪, খান প্লাজা, (লিফটে ৭ রুম নং -৯ সি) ফকিরাপুল, কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০, Mobil: 01713-086019
ই-পেপার