প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১১, ২০২৬, ৮:০৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১১, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় নালিশী জমি নিয়ে দুপক্ষের বিরোধ ; শালিসি বৈঠকে নিষ্পত্তির চেষ্টা

পাইকগাছা ( খুলনা) প্রতিনিধি।।
পাইকগাছায় নিজ নামের রেকর্ডিয় জমি ভোগ দখলে প্রতিপক্ষরা বাঁধা প্রদান করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আমিন উদ্দিন সরদার। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বরাবর প্রতিপক্ষ হাবিবুর রহমান গংদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে প্রথম শালিসি বৈঠকে ও বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রতিপক্ষদের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছেন শালিসির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এর আগে আদালতের ডিগ্রির মাধ্যমে নালিশী জমির রেকর্ড ফিরে পান ভুক্তভোগী আমিন উদ্দিন।
প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে উপজেলার ভিলেজ পাইকগাছা গ্রামের মুহাম্মদ সায়েম উদ্দিন সরদার ও তার ছেলে ব্যবসায়ী আমিন উদ্দিন সরদার পাইকগাছা মৌজায় এসএ ২১৪ ও ২১৫, বিআরএস ৮২ খতিয়ানে এসএ ৩২ বিআরএস ৫৫ দাগে দুটি কোবলা দলিল মূলে ১৬ শতক জমি ক্রয় করেন। দুটি দলিলের মধ্যে ১০-০৪-১৯৬৪ সালে ৫৩৩ নং দলিল মূলে সায়েম আলী আকবর আলী গাজীর নিকট থেকে ৩৩ শতক জমি ক্রয় করেন। যার মধ্যে নালিশী দাগ খতিয়ানে ৬ শতক এবং ১৬-০২-১৯৮৬ সালে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এসএম এ মাজেদের নিকট থেকে আমিন উদ্দিন ১১৬৫ নং দলিল মূলে ১০ শতক জমি ক্রয় করে সেই থেকে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগদখল করে আসছেন।বর্তমান জরিপে ১৬ শতক জমির মধ্যে ৪ শতক জমি আমিন উদ্দিন সরদারের নামে এবং ১০ শতক একের এক খতিয়ানে ও ২ শতক প্রতিপক্ষ হাবিবুর রহমান গংদের নামে রেকর্ড হয়। বিষয়টি জানতে পেরে আমিন উদ্দিন সরদার ০৭-০১-২০২৫ তারিখে প্রতিপক্ষ একই এলাকার মৃত আদিল উদ্দিন গাজীর ছেলে হাবিবুর রহমান গংদের বিরুদ্ধে পাইকগাছা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। যার নং ০৫/২০২৫। এ মামলায় বিজ্ঞ আদালত ২৫-০২-২০২৬ তারিখে বাদি আমিন উদ্দিন সরদারের অনূকূলে ডিগ্রি প্রদান করেন। আদালতের ডিগ্রির মাধ্যমে একের এক খতিয়ানে যাওয়া ১০ শতক এবং প্রতিপক্ষদের থেকে ২ শতক সহ পূর্বের রেকর্ডীয় ৪ শতক সহ মোট ১৬ শতক জমি প্রাপ্ত হন। এদিকে নালিশী জমি ভোগদখলে বাঁধা প্রদান করলে প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ২১-০৪-২০২৬ তারিখে সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদ পরিষদ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আমিন উদ্দিন। বিষয়টি নিষ্পত্তি করার লক্ষে ৩ ইউপি সদস্য এবং বিএনপি জামায়াতের দুই জন নেতার সমন্বয়ে কমিটি গঠন করেন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান পীযুষ কান্তি মন্ডল। কমিটি আমিন উদ্দিন এর অনূকূলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার পর ৪ জুলাই দুই পক্ষের উপস্থিতিতে শালিসি বৈঠকের আয়োজন করেন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান। বৈঠকে শালিসি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নালিশী জমি সার্ভেয়ার দিয়ে পরিমাপ করে ১৬ শতক আমিন উদ্দিন সরদার এবং ৪ শতক হাবিবুর রহমান গংরা ভোগদখল করবেন বলে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করায় হাবিবুর রহমান গংদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হন শালিসের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পরে বিষয় টি নিষ্পত্তির জন্য সিদ্ধান্ত নিতে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয় হাবিবুর রহমান কে। এসময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দ সহ দুই পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস আর নিরব। Office: ২০৫/৪, খান প্লাজা, (লিফটে ৭ রুম নং -৯ সি) ফকিরাপুল, কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০, Mobil: 01713-086019
ই-পেপার