মোঃ আলম খান,নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোণায় স্বামী পরিত্যক্তা ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের দীর্ঘ ১৩ বছর পর এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন আদালত। ধর্ষক হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি,ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া কন্যা সন্তানকে পিতৃপরিচয় ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার দিয়েছেন বিচারক।
২০১৩ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা গ্রামে সহজ-সরল নারী খুববানুকে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী এস এম হেলাল। এতে খুববানু অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে মামলা দায়ের করা হয়। সন্তান জন্মের দুই সপ্তাহ পরই মারা যান খুববানু। মায়ের মৃত্যুর পর পিতৃপরিচয়ের জন্য ১৩ বছর ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে খুববানুর মেয়ে কলি আক্তার। অবশেষে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণ মেলে পিতৃপরিচয়ের।
এ বিষয়ে কলি আক্তার বলেন,১৩ বছর ধরে আমি কোর্টে আইতাছি,বাবার পরিচয়ের লাইগা। সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে আমি আমার বাবার পরিচয় পাইছি..দীর্ঘ দিন পর এমন রায়ে সন্তুষ্ট মামলার বাদী ও স্বজনরা ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
মামলার বাদী ও কলির খালা শাহবানু বলেন,১৩ বছর ধইরা আমরা এই বিচার চাইতাছি। আইজকা রায় পাইয়া আমরা অনেক খুশি...রায় বিষয়ে প্রতিবেশী এস এম আওলাদ হোসেন জানান,মেয়েটা তার পিতৃপরিচয় এবং ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। আমরা এলাকাবাসী এই রায়ে অনেক খুশি এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি) মোঃ নুরুল কবীর (রুবেল) বলেন,আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টের ভিত্তিতে শিশুটিকে আসামি বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রায় সমাজে ন্যায়বিচারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এস আর নিরব। Office: ২০৫/৪, খান প্লাজা, (লিফটে ৭ রুম নং -৯ সি) ফকিরাপুল, কালভার্ট রোড, মতিঝিল, ঢাকা ১০০০, Mobil: 01713-086019