
আনিসুর রহমান নাটোর জেলা প্রতিনিধি :
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এখন যেন প্রকৃতির রঙের উৎসব চলছে। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মাঝেও উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, গ্রামীণ জনপদ ও পাড়া-মহল্লা সেজে উঠেছে কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভায়। রাস্তার দুই ধারে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছে ফুটেছে আগুনরাঙা ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে লাল, কমলা ও হলুদ রঙের ফুল যেন প্রকৃতিকে দিয়েছে নতুন এক প্রাণচাঞ্চল্য।
কৃষ্ণচূড়া, যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া, ফ্যাবেসি পরিবারের অন্তর্গত এক শোভাময় বৃক্ষ। ‘গুলমোহর’ নামেও পরিচিত এই গাছ গ্রীষ্মকালে তার অপরূপ সৌন্দর্যে মানুষকে মুগ্ধ করে। প্রায় ১২ মিটার উচ্চতার এই বৃক্ষ তার বিস্তৃত শাখা-প্রশাখা ও ছায়াময় পরিবেশের জন্যও বেশ জনপ্রিয়। বর্তমানে বাগাতিপাড়ার প্রায় প্রতিটি সড়কেই চোখে পড়ছে কৃষ্ণচূড়ার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
বিশেষ করে উপজেলার বিহারকোল, তমালতলা, লোকমানপুরসহ বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়ার ফুল পথচারীদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করছে। অনেকেই গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউবা স্মৃতিবন্দি করছেন মোবাইল ক্যামেরায়।
গতকাল শনিবার দুপুরে বিহারকোল এলাকার বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে বিশ্রাম নেওয়া আকছেদ আলী বলেন, দূর থেকে সাইকেল চালিয়ে এসে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। গাছের নিচে বসতেই যেন একটু শান্তি পেলাম। মনে হচ্ছে প্রকৃতি নিজেই প্রশান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে।
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার নাটোর জেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম বলেন, আগে রাস্তার দুই পাশে অনেক কৃষ্ণচূড়া গাছ ছিল। কিন্তু বৃক্ষ নিধনের কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে কৃষ্ণচূড়া গাছ। তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে বেশি বেশি কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।


